
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তারের পর তাদের মধ্যে দুজনকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপি ও কৃষকদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মাহমুদুল হাসান শাকিল হোসেন ওরফে ‘স্যুটার শাকিল’ (২৩), উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আনন্দ ঘোষ (২৬) এবং মাগুড়া গ্রামের যুবলীগের সক্রিয় কর্মী ফারুক মৃধা (৩৫)।
পুলিশের তথ্যমতে, মাহমুদুল হাসান শাকিল ওরফে ‘স্যুটার শাকিলের’ বিরুদ্ধে নাটোরের গুরুদাসপুর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এছাড়া অপর দুজনকে নাশকতা ও হামলা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়।
এদিকে, গ্রেপ্তার ছাত্রলীগের নেতা শাকিল ও আনন্দ ঘোষকে ছাড়াতে তাড়াশ থানায় গিয়ে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি শ্রী গোপাল চন্দ্র ঘোষ এবং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আশুতোষ স্যানালের বিরুদ্ধে।
তাদের থানায় যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাদের থানায় অবস্থান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার দৃশ্য দেখা যায় বলে জানা গেছে। তবে তারা কী উদ্দেশ্যে থানায় গিয়েছিলেন এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছাড়ানোর জন্যই তদবির করেছিলেন কি না—এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি শ্রী গোপাল চন্দ্র ঘোষ ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আশুতোষ স্যানালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমাম জাফর বলেন, ছাত্রলীগ নেতা ‘স্যুটার শাকিলের’ নামে হত্যা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এছাড়া নাশকতা ও হামলা মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জেলা সদরে একটি সভায় থাকাকালে ওই দুই নেতা থানায় গিয়ে ফোনে তাদের বিষয়ে কথা বলেন। তবে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুলিশ আইন অনুযায়ীই কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুর রহমান টুটুল বলেন, তিনি তদবিরের ভিডিও দেখেননি এবং এ বিষয়ে কেউ তাকে অবগত করেননি।
জাতীয় প্রেক্ষাপটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের তৎপরতা
এদিকে, তাড়াশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাদের গ্রেপ্তারের এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল ও কর্মসূচির খবর প্রকাশিত হচ্ছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে সাভারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে আটজনকে আটক করার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিলের খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানীর গুলশানেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রকাশনা, প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।
এ অবস্থায় তাড়াশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাদের গ্রেপ্তার এবং তাদের ছাড়াতে রাজনৈতিক নেতাদের থানায় যাওয়ার অভিযোগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।