
সিরাজগঞ্জ সংবাদ ডেস্ক:
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সিরাজগঞ্জের রায়পুরের জাতীয় জুট মিলস আবারও কর্মচঞ্চল হওয়ার পথে। সরকারের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল পুনরায় চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে মিলটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। এতে মিলটিতে নতুন করে শিল্প উৎপাদন ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় জুট মিলসসহ খুলনার আরও দুটি বন্ধ পাটকল চালুর জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে প্রাণ-আরএফএল ও হ্যামকো গ্রুপ। এর ফলে তিনটি মিল মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের রায়পুরের জাতীয় জুট মিলস এবং খুলনার স্টার জুট মিলস ইজারা পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি এ দুটি মিলে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় জুট মিলসহ এসব কারখানায় প্রচলিত পাটপণ্যের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ও বহুমুখী পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, আসবাব, জুতা, খেলনাসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সিরাজগঞ্জের দীর্ঘদিনের বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি আবারও উৎপাদনে ফিরলে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় জুট মিলস লিমিটেডের অবস্থান রায়পুর, সিরাজগঞ্জ সদর এবং প্রতিষ্ঠানটি জুট মিল হিসেবে নিবন্ধিত।
উল্লেখ্য, ক্রমাগত লোকসানের কারণে ২০২০ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে এসব মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি মিল ইজারা নিয়ে উৎপাদনে ফিরেছে এবং সেখানে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিল আবার চালু হলে শুধু একটি বন্ধ কারখানার পুনর্জাগরণই নয়—স্থানীয় শ্রমবাজার, পাটচাষি, ব্যবসায়ী ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।