
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদে ১১ দলীয় জোটের ‘ঢাকা–রংপুর লংমার্চ’ শেষে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত জামায়াত নেতা মাওলানা মো. আব্দুস সবুর সেখের স্ত্রী শোহর বানু বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে দায়ের করা মামলায় সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকারসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আহত আব্দুস সবুর সেখ সয়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির। বর্তমানে তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার অভিযোগ
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, শনিবার দুপুরে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের একটি গাড়িবহর যমুনা সেতু পার হয়ে সয়দাবাদ এলাকা অতিক্রম করে। এ সময় আব্দুস সবুর সেখসহ জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে গাড়িবহরকে স্বাগত জানান।
জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, এ সময় স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী গাড়িবহরে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে জামায়াত শিবিরের শক্ত অবস্থান ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
তাদের দাবি, লংমার্চের গাড়িবহর এলাকা পার হয়ে যাওয়ার পর জোহরের নামাজ শেষে একটি মসজিদ থেকে বের হলে আব্দুস সবুর সেখ ও নুরুন্নবীর ওপর হামলা করা হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও ছুরিকাঘাতে তারা আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে আব্দুস সবুর সেখকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আব্দুস সবুরের শরীরের কয়েকটি স্থানে গুরুতর জখম রয়েছে।
বিএনপির বক্তব্য
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতারা।
সয়দাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, লংমার্চের সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াতের নেতাকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুস সবুরকে কিল-ঘুষি মারে।
তার দাবি, কাঠের আঘাতের কারণে রক্তপাত হয়ে থাকতে পারে; তবে তাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ সত্য নয়।
রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, বরং জামায়াতের নেতাকর্মীরা আল আমিন নামে বিএনপির এক কর্মীকে মারধর করেছেন এবং এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছে। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে জামায়াতের পক্ষ থেকে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের বক্তব্য
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম বলেন, লংমার্চ শেষে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়েছে। এতে আব্দুস সবুর গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার রাতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা, হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।