1. yousuf.islamics@gmail.com : admin :
  2. editor@sirajganjsangbad.com : Md. Ruhul Amin : Md. Ruhul Amin
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গভীর রাতে বালিকা বিদ্যালয়ে তাণ্ডব! কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙচুর, তদন্তে পুলিশ তাড়াশ উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা বিয়ের প্রলোভনে শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ: দুলাভাই পলাতক উল্লাপাড়ায় সরকারি জায়গা দখল করে বিএনপি নেতার মার্কেট নির্মাণ তাড়াশে মাদক সেবনের দায়ে এক মাসের কারাদণ্ড তাড়াশে বাসার গ্রিল কেটে ২৯ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৩ লাখ টাকা চুরির অভিযোগ তাড়াশে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা তাড়াশে মৎস্যজীবী দলের দোয়া ও ইফতার মাহফিল হঠাৎ অসুস্থ জামায়াত আমির ২০২৬ সেশনের জন্য ছাত্রশিবির, সিরাজগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি হাবিবুল্লাহ সরকার সেক্রেটারি নাজমুল হাসান

সিরাজগঞ্জে হুমায়ুন-মোস্তফা তৃণমূল বিএনপির আস্থা

সিরাজগঞ্জ সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪
  • ২৯৯ বার পঠিত


শরীফুল ইসলাম ইন্না

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের খবরে পদ হারানোর অতংকে ভুগছেন অনেকে। কারা নেতৃত্বে আসছেন নতুন এই কমিটিতে তা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ জোরো শোরে আলোচনা হচ্ছে। পদ পেতে জেলা থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন পদ পত্যাশী নেতারা। ইতিমধ্যে জেলা কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের কথা জেলা বিএনপিকে জানিয়েছে রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক টিম। মৌখিক ভাবে জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। নতুন কমিটিকে গ্রহন করতে প্রস্তুত থাকতেও বলা হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি সাধারন সম্পাদককে। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

আগামী আন্দোলন সংগ্রামের কথা মাথায় রেখে দলের ত্যাগী, নির্যাতিত এবং ক্লিন ইমেজের নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠনের দাবী তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের। তাদের মতে বিগত কমিটির বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে কমিটি বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটিতে দলের বিতর্কিত ও ঝিমিয়ে পড়া ব্যক্তিদের পদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম. আকবর আলী এবিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভিযোগও করেছেন বলে জানা গেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের খবর বেশ কিছু দিন হলো শোনা যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি আরো জোরালো হয়েছে। বিগত সরকার পতন আন্দোলনে বিএনপির হরতাল-অবরোধে বিএনপির অনেক নেতাকে মাঠে দেখা যায়নি। সিরাজগঞ্জ শহরে মিছিল মিটিং করতে দেখা যায়নি বিএনপির নেতাদের। শহরের বাইরে হরতাল-অবরোধের সমর্থনে মিছিল করলেও তার প্রভাব পড়েনি শহরে। আন্দোলনের সময় জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ ঢাকায় অবস্থান করেছেন। হরতাল-অবরোধের সমর্থনে মিছিলে তাকে দেখা যায়নি। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা ছিলো বিএনপির কিছু তরুন নেতাদের। এছাড়া উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, বেলকুচি উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদেরও সক্রিয় ভুমিকা ছিলো। যে কারনে এবার নতুন কমিটিতে তরুন নেতাদের নেতৃত্বে কমিটি চায় তৃণমূল নেতাকর্মী।

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির নতুন কমিটিতে পদ পেতে অনেক নেতাই চেষ্টা করছেন। বেশ কয়েকদিন হলো ঢাকায় কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের বাড়ি, অফিস ও দলীয় কার্যালয়ে দৌড়ঝাপ পাড়ছেন পদ প্রত্যাশী নেতারা। নতুন এই কমিটিতে কারা আসছেন তা নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বেশ আলোচনা হচ্ছে। পছন্দের নেতাদের পক্ষে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে সমর্থন জানাচ্ছেন। কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ গোপনে সমর্থন জানাচ্ছেন।

নতুন এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক, কেন্দ্রীয় তাঁতী দলের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন ইসলাম খান ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা মোরাদুজ্জামানের ছেলে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মির্জা মোস্তফা জামানের নাম জোরে সোরে শোনা যাচ্ছে। এই দুই জন ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিত। তাদের নেতৃত্বে জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের খবর বেশি শোনা যাচ্ছে। তৃণমূল বিএনপির নেতারা আস্থা রাখছেন হুমায়ুন-মোস্তাফার প্রতি। এই দুই জন কমিটিতে আসলে দল আরো গতিশীল হবে বলে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই মনে করছেন।

তবে বিএনপির নতুন এই কমিটিতে পদ ধরে রাখতে চেষ্টা করছেন বর্তমান সভাপতি রুমানা মাহমুদ। রুমানা মাহমুদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী। তাকে সমর্থন জানিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তদবীর করা হচ্ছে। স্ত্রীকে পুনরায় সভাপতি করতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও বিদেশ থেকে বিভিন্ন নেতাদের তদবির করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। জেলা বিএনপির বর্তমান সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুকে পদ ধরে রাখতে চান। তিনিও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তার অবস্থান তুলে ধরছেন। তবে জেলা অধিকাংশ নেতাকর্মী চায় পরিবর্তন ও তরুন নেতৃত্ব।

এছাড়া সাধারন সম্পাদকের পদ পেতে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রাশেদুল হাসান রঞ্জনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম মিন্টুর নাম শোনা যাচ্ছে। সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রচারনা চালাচ্ছেন। তবে সব কিছু নির্ভর করছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপর। তিনি যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই পদে রাখবেন বলে সকল পদ প্রত্যাশীরা মনে করছেন। জেলা বিএনপির একাধিক নেতা পদ প্রত্যাশী। কিন্তু তারা প্রকাশ্যে নেই। তাদেরকে দায়িত্ব দিলে তারা তা গ্রহন করবেন বলে জানা গেছে।

উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল বলেন, আমরা নতুন কমিটি চাই। নতুন নেতৃত্বে বিএনপি আরো শক্তিশালী হবে। সিন্ডিকেট মুক্ত কমিটি চাই। বিগত কমিটিতে যারা কমিটি বানিজ্য করেছে তাদের নেতৃত্ব দিলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নতুন নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী স্বপন বলেন, দলে নেতৃত্বর পরিবর্তন হবে এটি স্বাভাবিক ঘটনা। দলকে শক্তিশালী করতে এই মুহুর্তে তরুনদের দিয়ে কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। যারা বিগত সময় আন্দোলনে ভুমিকা রেখেছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে কমিটি বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তারা যেন কমিটিতে না আসতে পারে সেটি খেয়াল রাখতে হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে সবার আমলনামা আছে। তিনি যোগ্য নেতাকেই পদে বসাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

সাধারন সম্পাদক প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, সিরাজগঞ্জে বিএনপি প্রতিষ্টা করতে আমার বাবা মির্জা মোরাদুজ্জান অবদান রেখেছেন। আমিও দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তারেক রহমানের নির্দেশে আন্দোলনে মাঠে আছি। আন্দোলন করতে গিয়ে আমি প্রায় ৩০টি মামলার আসামী হয়েছি। জেল খেটেছি, নির্যাতন ভোগ করছি। জনগনের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে বিএনপির আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকে গতিশীল করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলকে ঢেলে সাজানোর যে উদ্বোগ নিয়েছে আমি তা সাধুবাদ জানায়। আমি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক প্রার্থী। তারেক রহমান যদি আমাকে যোগ্য মনে করে কমিটিতে জায়গা দেন তাহলে রাজপথে এর প্রতিদান দেবো।

জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হিসেবে আন্দোলনে মাঠে ছিলাম। তারেক রহমান আমার সম্পর্কে জানেন। তিনি যে পদে আমাকে দায়িত্ব দেবেন আমি তা গ্রহন করবো। তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত।

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট মোকাদ্দেস আলী বলেন, এই বয়সে পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই না। তবে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি আমাকে জেলা বিএনপির দায়িত্ব দেন তাহলে আমি গ্রহর করবো। সন্মানের সাথে দল করতে চাই। কিন্তু সন্মান আর নাই। দলকে শক্তিশালী করতে নেতৃত্বে পরিবর্তন করতে হবে। কর্মীবান্ধব নেতাদেরকে নেতৃত্বে আনতে হবে।

জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম খান বলেন, দলকে শক্তিশালী করতে এই মুহুর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিকল্প নেই। ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা ২৭ বছর জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। সুতরাং ম্যাডাম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আমার সম্পর্কে জানেন। আমাকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দিলে আমি তা গ্রহন করবো। বিএনপি করতে গিয়ে আমি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ১৯৯৫ সালের ১লা জুন আমার সিনেমা হল (নীলা হল) সহ ৪১ টি বিএনপি নেতা কর্মীদের বাসা বাড়ি, বিএনপি অফিসে অগ্নি সংযোগ করছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াত সহ আন্দোলন রত বিরোধী দল পুলিশ আমাকে মেরে হাতের আঙ্গুল ভেঙে দিয়েছিল। তারপরও দল ছাড়িনি। দলের সঙ্গে আছি। দল আমাকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দিলে আন্দোলনে মাঠে থাকবো। দলকে আরো শক্তিশালী করতে কাজ করবো।

বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। যে কারনে নতুন করে কমিটি গঠনের উদ্যেগ নিয়েছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের ত্যাগী ও ক্লিন ইমেজের নেতারাই নেতৃত্বে আসবে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করছি। তদন্ত রিপোর্ট তারেক রহমানের কাছে জমা দেওয়ার পর কমিটি ঘোষনা হবে। আমরা রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিলে জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে তাদের অবগত করা হয়েছে। তারা নতুন কমিটি গ্রহন করতে প্রস্তুত আছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই রুমানা মাহমুদকে সভাপতি ও সাইদুর রহমান বাচ্চুকে সাধারন সম্পাদক করে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ সিরাজগঞ্জ সংবাদ
Theme Customized BY Shakil IT Park