
ইয়াহিয়া খান
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের পোতাজিয়া কালিবাড়ি যদুর নৌকা ডুবে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুই শিক্ষার্থী নিহত ও ৮
শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে ৩জনকে শাহজাদপুর উপজেলা
স্বস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহত ও অসুস্থরা
সবাই শাহজাদপুর পৌর সদরের দ্বারিয়াপুর বাজার পাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও
স্কুল-কলেজের ছাত্র। বন্যার পানিতে শখের বসে নৌকায় বেড়াতে গিয়ে এই
মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, নিহতেরা হলেন, শাহজাদপুর পৌর
এলাকার দ্বরিয়াপুর বাজারপাড়া মহল্লার শাহ আলমের ছেলে ও শাহজাদপুর সরকারি
কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র সজল (২০) এবং একই মহল্লার তৌহিদের ছেলে ও
শাহজাদপুর সরকারি কলেজের ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তন্ময় (১৮)।
অসুস্থরা হলেন, একই এলাকার বাবু শেখের ছেলে ও ১ শ্রেণির ছাত্র শাহেদ
আলী(১৭), মনি প্রামাণিকের ছেলে ও ১০ শ্রেণির ছাত্র নিরব(১৭), মিজুনুরের
ছেলে ৯ম শ্রেণির ছাত্র রোহান(১৬), নুরুজ্জামানের ছেলে ও ৮ম শ্রেণির ছাত্র
জোবায়ের(১৫), ৯ম শ্রেণির প্রাইজ(১৬), মো: আলীর ছেলে ও অনার্স ১ম বর্ষের
ছাত্র রোহিত(২০), তার ভাই ৬ষ্ঠ্য শ্রেণির জায়েদ আলী(১৪) ও পাবনা শহরের
ইন্টার ২য় বর্ষের ছাত্র আপন(২০)। সে আত্নীয় বাড়িতে বেড়াতে এসে বন্ধু ও
স্বজনদের সাথে নৌকায় বেড়োতে গিয়ে এ দূর্ঘটনায় পড়ে।
এ নৌকা ডুবিতে বেঁচে যাওয়া ১০ শ্রেণির ছাত্র শাহেদ আলী ও নিহতদের
স্বজনদের কাছে থেকে জানা যায়, এদিন সকাল ৯টার দিকে বন্যার পানিতে ডুবন্ত
রেশমবাড়ি গ্রামের লো-হাইড পাকা সড়কে গোসলের উদ্দেশ্যে নিহত ও বেঁচে যাওয়া
১০ বন্ধু ও স্বজনেরা বাড়ি থেকে বেড় হয়। ওই সড়কটি পোতাজিয়ার বাজারপাড়া
পর্যন্ত বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় তারা ওই এলাকায় নৌকায় বেড়ানোর জন্য
একটি ছোট নৌকা ভাড়া নিয়ে সামনে অগ্রসর হয়। এর কিছুক্ষণ পর নৌকাটি
পোতাজিয়া কালিবাড়ি যদুর জোলা এলাকায় পৌছালে অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ডুবু
ডুবু নৌকাটি একদিকে হেলে গিয়ে পানি উঠতে থাকে। এতে সবাই চিৎকার চেচামেচি
শুরু করে বাঁচার জন্য নড়াচড়া শুরু করে। ফলে নৌকাটি উল্টে সবাই পানিতে পড়ে
যায়। এ সময় যারা সাঁতার জানে তারা তীরে উঠতে স্বক্ষম হয়। সাঁতার না জানা
ব্যক্তিদের বাঁচাও বাঁচাও চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছোট ছোট নৌকা নিয়ে ছুটে
এসে কয়েকজনকে উদ্ধার করে। এ সময় সাঁতার না জানায় কলেজ ছাত্র সজল ও হৃদয়
গভির পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। এরপর স্থানীয় লোকজন ও শাহজাদপুর ফায়ার
সািের্ভসের কর্মীরা যৌথ ভাবে চেষ্টা চালিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে
পোতাজিয়ায় অবস্থিত শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে
কর্তব্যরত চিকিৎসক সজল ও হৃদয়কে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ৩ জনের অবস্থা
বেশি গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করেন। বাঁকিদের প্রাথমিক
চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।এরপর দুপুরে নিহতদের লাশ তাদের বাড়িতে এসে
পৌছালে স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। এ সময়
তাদের লাশ দেখতে শত শত নারী পুরুষ সেখানে ভিড় করে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের
ছায়া নেমে এসেছে।
শাহজাদপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার খোরশেদ আলম জানান, খবর পেয়ে
দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে
স্থানীয় হাসপাতালে পৌছে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি সবুজ রানা জানান, খবর পেয়ে নিহতদের বাড়িতে
পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা এখনও সেখানে অবস্থান করছে। এ বিষয়ে নিহতদের
পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ নেই। তাই আইনি প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত
নেওয়া হবে।