
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের পূর্বদেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্টার নিউজের সাংবাদিক মো.গোলাম মোস্তফা মামুনকে মারধর এবং পরবর্তীতে তার বাড়িতে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর উল্লাপাড়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২১ জুন) দুপুরে পূর্বদেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন উপলক্ষে স্থানীয় অভিভাবক, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী উপস্থিত হন। এ সময় কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের সভাপতি ও অন্যান্য পদে নির্বাচিত করার উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ চাপ সৃষ্টি করে। এ সময় সাংবাদিক মো. গোলাম মোস্তফা মামুন নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠনের পক্ষে মতামত দিলে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার সময় সাংবাদিক মামুনকে মারধর করা হলে উপস্থিত গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান এবং পরে বাড়িতে পৌঁছে দেন। তবে সেখানেই পরিস্থিতির অবসান হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, পরে শফিকুল ইসলাম ঠান্ডুর নেতৃত্বে একদল লোক সাংবাদিকের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায় এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
ঘটনার সময় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উপস্থিত সাধারণ জনগণের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মো. গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, “আমি শুধুমাত্র নিয়ম অনুযায়ী কমিটি গঠনের কথা বলেছিলাম। এর জের ধরে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পরে আমার বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। আমি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।”
ঘটনার বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন অভিযোগকারী। পুলিশ অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাইনি। তবে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিষয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”