
জহুরুল ইসলম,বেলকুচি প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে পূর্ব শত্রুতার জেরে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। নিহত রানা ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের চর গোপালপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকালে গোপালপুর মধ্য পাড়ায় হারুন মন্ডল ও হায়দার আলী প্রামানিক এর মধ্যে সেচ পাম্প বসানোকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরে বিবাদমান দু-গ্রুপের সংঘর্ষে রানা প্রামানিক (৪৫) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছে।
সংঘর্ষে আরো দুজন আহত হয়, আহতরা হলেন একই গ্রামের, মৃত কেসমত আলী প্রামানিকের ছেলে মোঃ হায়দার আলী বিসা ও আব্দুস সালাম প্রামানিকের ছেলে রাজ উদ্দিন, আহত রাজ উদ্দীনকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং হায়দার আলীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে ঐ এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
নিহতের চাচাতো ভাই হযরত আলী বলেন, মন্ডল গুষ্টির সাথে আমাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পূর্ব শত্রুতা ছিল, চলতি বছরের ৮ মার্চ আমিরুল ইসলামের ছেলে সোমাদুল ইসলাম তাদের সেচ পাম্পে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়, আমিরুল ইসলাম ছেলের মৃত্যুতে থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন, কিন্তু সোমাদুলের চাচা সাইদুর রহমান আমাদেরকে ফাঁসাতে একই ঘটনায় কোর্টে গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। আমরা কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আসি, মিথ্যা মামলায় আমাদের ফাঁসাতে না পেরে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করে, আর আজ বাজার থেকে ফেরার পথে আমার চাচাতো ভাই রানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।
আহত হায়দার আলী বিসা বলেন, আমি আমার চাচাতো ভাই রাজ উদ্দিন ও রানা খামারউল্লাপাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলাম, পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মন্ডল বাড়ির লোকজন তাদের বাড়ির কাছাকাছি আসা মাত্র আমাদের উপর আক্রমণ করে, আক্রমণে আমি ও রাজ উদ্দিন আহত হই, আর রানাকে ফালা দিয়ে ঘা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে
অভিযুক্ত হারুন মন্ডল ও সারোয়ার সর্দার এর বাড়িতে গিয়ে কথা বলার মত কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে বেলকুচি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: আব্দুল বারিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযানে ব্যস্ত আছি এ ব্যাপারে এখন কিছু বলতে পারছি না।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায়, নিহত রানার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।