
জহুরুল ইসলাম:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক
নুরজাহান বেগম সংরক্ষিত ওয়ার্ডের
ইউপি সদস্যের বোন হাজেরা খাতুন ও তার ছেলে
ইমরানকে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বেলকুচি উপজেলার বড়ধুল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মামলা না নিয়ে থানা পুলিশ বৈঠক করে বিষয়টি মিটমাট করে বলে অভিযোগ উঠেছে। থানায় সমঝোতা বৈঠক করে নারী ইউপি সদস্যের অভিযোগের বিষয়টি মীমাংসা করেন বলে নিশ্চিত করেন বেলকুচি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাজেদুলের মাধ্যমে তিনি ঘটনা জেনেছেন। তবে ঐ ইউপি সদস্যের পক্ষ থেকে কেউ থানায় অভিযোগ দেননি। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) মাধ্যমে উভয় পক্ষদ্বয়কে থানায় বসিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।
এতে উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি সদর ইউপি চেয়ারম্যান মীর্জা সোলায়মান বড়ধুল ইউপি চেয়ারম্যান আছের উদ্দিন মোল্লা ও নারী ইউপি সদস্যের স্বামী আনোয়ার হোসেন।
জানা যায়, বড়ধুল ইউপির ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য নুরজাহান বেগমের ছেলে ইমরান (১৩) শুক্রবার স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ বিশ্বাসের ঈগল প্রতীকের পোস্টার গেঁথে খেলাচ্ছলে মিছিল করছিলেন। এসময় স্থানীয় বোরহান উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম, সালাম ঘোষের ছেলে ইউসুফ, আবুল হোসেনের ছেলে আলামিন, রশিদসহ নৌকা প্রার্থী বর্তমান এমপি আব্দুল মমিন মণ্ডলের কয়েকজন সমর্থক।
সিরাজগঞ্জ-৫ বেলকুচি ও চৌহালী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইমরানকে মিছিল করতে বধ করে। সে কথা না শোনায় তারা ইমরানকে বেধড়ক পিটিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে নুরহাজান বেগম ও হাজেরা খাতুন ইমরানকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। পুলিশ জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমরান, আলামিন ও রশিদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে উভয় পক্ষের সমঝোতার পর আটককৃতদের মুচলেকায় ছেড়ে দেয়া হয়।
পুলিশ চাপে ফেলে তাঁকে সমঝোতায় বাধ্য করেছেন বলে অভিযোগ করেন নারী ইউপি সদস্যের স্বামী আনোয়ার হোসেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁর ছেলে, স্ত্রী-শালিকাকে মারধর করা হলো, অথচ পুলিশ কৌশলে অভিযুক্ত দু’জনের সঙ্গে তাঁর ছেলেকেও থানায় আটক করে আনে। তাঁর স্ত্রী মামলা দিতে থানায় এলে তাঁকে বলা হয় অন্যপক্ষও থানায় মামলা করবে, তাঁর ছেলেও আটকা পড়বে। আসামিদের যোগসাজশে পুলিশ ঘটনাটির অভিযোজন করিয়ে নিয়েছে। তাঁর ছেলেকে পুলিশ আটক করায় তিনি নিষ্পত্তি করতে বাধ্য হয়েছেন।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাজেদুল ও বড়ধুল ইউপি চেয়ারম্যান আছির উদ্দিনের ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ করেননি। খুদেবার্তা পাঠালেও দু’জনের কেউই সাড়া দেয়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর ইউপি চেয়ারম্যান মীর্জা সোলায়মান বলেন, নির্বাচনের পূর্বে দ্বন্দ্ব না বাড়িয়ে ঘটনার মীমাংসা করা হয়েছে। থানায় ওসির উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠকে তিনি, আছির মোল্লা চেয়ারম্যানসহ উভয় পক্ষ বসে মীমাংসা করেছেন।