
উল্লাপাড়া প্রতিনিধি:
‘ভুতুড়ে’ ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) নুরুল হুদার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন গ্রাহকেরা। একপর্যায়ে তারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে অফিস ঘেরাও করেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা গ্রাহকেরা সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে জিএম নুরুল হুদার পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত মিটার রিডিং যাচাই না করেই গ্রাহকদের কাছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পাঠানো হচ্ছে। স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক হারে বিল আসায় অনেক গ্রাহককে বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।
তাদের আরও অভিযোগ, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে তারা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া গ্রাহকদের সরে যেতে বলা হয়।
এরপর আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল তাদের বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবির বিষয় নিয়ে জেনারেল ম্যানেজার নুরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার নুরুল হুদার বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হয়। সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তার যোগাযোগ নম্বরে ফোন করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকেরা অবস্থান নিয়েছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ১৭ জুন জিএম নুরুল হুদার অপসারণ দাবিতে উল্লাপাড়ায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলেন কয়েকজন গ্রাহক। সে সময় জিএম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, কিছু ইলেকট্রিশিয়ান ও দালালের অনিয়মে বাধা দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।