
সিরাজগঞ্জ সদর প্রতিনিধি:
জাল ওয়ারিশান সনদ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. রেহানা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে মামলায় হাজিরা দিতে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে গেলে শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন আদালত। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের আদেশটি দেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার।
মামলার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাম জাল করে ওয়ারিশান সনদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ইউপি সদস্য রেহানা খাতুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মজিদ সেখের ছেলে মো. ফরিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন।
মামলায় রেহানা খাতুনের বিরুদ্ধে জাল ওয়ারিশান সনদ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার মামলার ধার্য তারিখে আদালতে হাজিরা দিতে গেলে শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
শিয়ালকোল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা ও হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. ইনামুল হক বলেন, মামলাটি অনেক আগের। তারা নতুন দায়িত্বে যোগদান করায় ঘটনার সময় কী হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না।
শিয়ালকোল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সালাম বলেন, “আজ তার মামলার হাজিরার দিন ছিল। হাজিরা শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। আমরা চাই, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করা হোক।”
সরকারি ইউনিয়ন পরিষদ সেবা-তথ্য অনুযায়ী, ওয়ারিশান সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের সিল-স্বাক্ষরসহ আবেদন গ্রহণের পর তথ্য যাচাই-বাছাই করে সনদ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি সনদ বা নথি জাল করার ঘটনা প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারায় জালিয়াতির সংজ্ঞা এবং ৪৬৫ ধারায় সাধারণ জালিয়াতির শাস্তির বিধান রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক তৈরি বা সরকারি রেকর্ড/সনদ হিসেবে প্রতীয়মান দলিল জাল করার ক্ষেত্রে ৪৬৬ ধারা এবং প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরির ক্ষেত্রে ৪৬৮ ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। জাল দলিলকে আসল হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও ৪৭১ ধারার বিধান রয়েছে।
তবে আদালতে বিচারাধীন মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত রেহানা খাতুনকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। মামলার অভিযোগের সত্যতা, জাল সনদ তৈরির সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় আদালতের বিচার ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।