
সাব্বির মির্জা তাড়াশ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় অনুমোদন ছাড়াই মাছ চাষের জন্য আবাদি জমিতে ইচ্ছে মতো পুকুর খননের মহোৎসবে মেতেছে। আর পুকুর খনন করার পর তোলা মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ক্রমেই কমছে আবাদি জমি। প্রতিনিয়ত উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের ফলে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা রাত হলেই পুকুর খননের নেমে পড়েন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২ হাজার ৫৩৯ টি পুকুর খনন করা হয়েছে। এই এক দশকের বেশি সময়ে আবাদি জমি কমেছে ১ হাজার ৯২০ হেক্টর। এ ছাড়াও বর্তমানে আবারও উপজেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠে পুকুর খনন শুরু হয়েছে। শ্রেণিভেদে প্রায় সব জমিতেই সারা বছরই কোনো না কোনো ফসলের আবাদ হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কাউরাইল, খুটিগাছা, সোলাপাড়া, বোয়ালিয়া, জাহাঙ্গীরগাতী, আসানবাড়ি, কোহিত, মহিষলুটি, ঘরগ্রাম, লালুয়ামাঝিড়া, বিনসাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে দিন দিন ফসলি জমির পরিমাণ কমছে আর বাড়ছে পুকুরের সংখ্যা। এই উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৩ হাজার পুকুর রয়েছে। এরপরও ঊর্বর ফসলি জমি কেটে আশঙ্কা জনকহারে পুকুর খনন করা হচ্ছে। ফসল উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ঝামেলাহীন অর্থ উপার্জনের চেষ্টায়ই ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় অনেক কৃষক জানিয়েছেন। একই সাথে চলছে জলাশয় দখল ও ভরাট। আর ড্রাম ট্রাকের মাটি আর ধুলার আস্তরণে বেহাল হচ্ছেন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলো। নানাভাবে স্থানীয় কিছু ভূমি অফিসকে ম্যানেজ করে চলছে এসব পুকুর খনন কাজ। এ কারণে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। একের পর এক খনন করা পুকুরে গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি।
হামকুড়িয়া গ্রামের কৃষক হাসিনুর রহমান জানান, তার জমিতে ধান ভালো হয় না। এ জন্য তিনি ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছেন। তার মতো অনেকে আবার পুকুর খনন করে ফসলি জমির মাটি দিয়ে বাড়ি করছেন।
কৃষকরা জানান, উৎপাদনে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেও কাঙ্খিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই লাভের আসায় পুকুর খনন করে তুলনামূলক ঝামেলাহীন অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছেন। এ সব পুকুরে তারা নিজেরা মাছ চাষ করছেন, আবার কেউ বা অর্থের বিনিময়ে মাছ চাষিদের কাছে লিজ দিচ্ছেন। এদিকে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বাড়ে জনদুর্ভোগ।
মাছ চাষি রবিউল করিম জানান, এই শুকনো মৌসুমে পুকুর তৈরি করা অনেকটা সহজ। তাই এখন তারা পুকুর তৈরি করছেন মাছ চাষের জন্য। আগে পুকুর খনন করতে অনেক সময় লাগতো। কিন্তু এখন প্রযুক্তির ব্যবহারে ভেকু দিয়ে দ্রুত একটি পুকুর খনন করা যায়।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিবছরই বাড়ছে পুকুরের পরিধি, কমে যাচ্ছে ঊর্বর আবাদি জমি। একই সঙ্গে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন এবং সরকারি জলাশয় দখল ও ভরাট করায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ হাসান আরও বলেন, প্রতিনিয়ত অভিযান চালানো হচ্ছে অবৈধভাবে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দেওয়া হচ্ছে। তারপরেও খবর পাচ্ছি গভীররাতে পুকুর খনন করছে। এখন রাতেও অভিযান চালানো হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।