
সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির নেতাদের মতের মিল হচ্ছে না। জ্যেষ্ঠ নেতারা চলমান হরতাল-অবরোধে বিরতি দিয়ে সভা-সমাবেশ কিংবা এ জাতীয় কর্মসূচি পালন করতে চান। তবে দলের হাইকমান্ড এ প্রস্তাব আমলে না নিয়ে হরতাল-অবরোধেই অটল। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকার নেতাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হলেও প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না কেউ। গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনের মহাসমাবেশে সংঘাতের পর থেকে এ পর্যন্ত হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। এসব কর্মসূচি প্রথম কয়েকদিন ঢিলেঢালাভাবে পালনের পাশাপাশি রাজপথে নেতাকর্মীদেরও সেভাবে উপস্থিতি ছিল না। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীসহ দলটির কেন্দ্রীয় সর্বোচ্চ পাঁচ-সাতজন নেতাকে শুধু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা যায়।
এছড়া দলের অঙ্গ, সহযোগী সংঠনের কয়েকজন এবং কয়েকটি জেলার নেতাদের রাজপথের মিছিলে দেখা গেছে। এর বাইরে নেতাকর্মীরা মাঠেই নামছেন না। হরতাল-অবরোধ চলাকালে একদিকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের কঠোর অবস্থান অন্যদিকে রাজপথে অধিকাংশ নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতিতে অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়ছে চলমান কর্মসূচি। দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকলেও আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল। সাধারণ মানুষও জীবন-জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন। যে কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন কর্মসূচির কথা ভাবছে বিএনপি।
এক্ষেত্রে ঢাকার জ্যেষ্ঠ নেতাদের পক্ষ থেকে সভা-সমাবেশের কর্মসূচির প্রস্তাব করা হচ্ছে। কিন্তু দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্দোলনে মাঠে থাকা নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কর্মসূচি চূড়ান্ত করছেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে ঢাকার জ্যেষ্ঠ নেতারা সরকার বিরোধী আন্দোলন করছেন। পুলিশের অনুমতি থাকা সভা-সমাবেশে যেসব নেতাকর্মীর ভিড়ে মঞ্চ ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, পুলিশের অনুমতিবিহীন কর্মসূচিতে সেসব নেতাদের কারও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। চলমান আন্দোলনে গত ২৯ জুলাই প্রথমবারের মতো পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করে ঢাকার প্রবেশদ্বারগুলোতে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই কর্মসূচিতে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তারাও সেই দাযিত্ব ঠিকমতো পালন করেননি।’
‘এতে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সকালে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রক্তাক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের কাছে ‘হিরো’ হলেও বিকেলে গোয়েন্দা পুলিশ প্রধানের অফিসে খাবার খেয়ে ‘ভিলেন’ বনে যান। মির্জা আব্বাস ঘর থেকে বের হতে পারেননি। নজরুল ইসলাম খান ও ড. আব্দুল মঈন খান তো তাদের নির্ধারিত স্পটেই যাননি।’
কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের নামতে হবে। চলমান কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা নেই। কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা নামবে, গ্রেফতার হলে হবে, মাঠে নামতে হবে। আমার মনে হয় আমাদের যাদের মামলা রয়েছে তাদের সবার উচিত আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করা।– সিরাজগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
তিনি বলেন, ‘জ্যেষ্ঠ নেতাদের দুজন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গা বাগিয়ে নিয়ে বহুতল আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। দলকে গতিশীল করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে না পারলেও নির্বাচনে মাঠের নেতাদের ‘বলি’ দিয়ে এসব নেতারা নিজের এবং স্ত্রী-সন্তানদের জন্য আসন নিশ্চিত করে মরিয়া থাকেন। একজন আছেন আন্দোলন শুরু হলেই তার ঠিকানা হয় হাসপাতালে। মাঠের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে না। কেউ কেউ রয়েছেন সরকারঘনিষ্ঠ বা দুর্নীতিগ্রস্ত।’