
সাব্বির মির্জা,তাড়াশ প্রতিনিধিঃ
বাজারের সরকারী জায়গা বন্দবস্ত (লীজ) নিয়ে দেয়ার কথা বলে এক গরীব-অসহায় বৃদ্ধের নিকট থেকে দেড় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বারুহাঁস ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাবশালী শাহিন (৩৫)’র বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বারুহাঁস ইউনিয়নের বস্তুল বাজারে। আর এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী তাড়াশ থানায় ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
প্রভাবশালী শাহিন বস্তুল গ্রামের মো. মঞ্জিলের ছেলে বলে জানা গেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বারুহাঁস ইউনিয়নের পলাশী গ্রামের মৃত আফসার মন্ডলের ছেলে বৃদ্ধ আব্দুল মতিন (৫২) বিগত ২০১০ সালে বস্তুর গ্রামের আরশেদা খাতুন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে বস্তুর বাজারে সরকারী ১.৫ শতক ভূমির পজিশন তাঁর নিকট হস্তান্তর হয়। পরে আব্দুল মতিন ওই জায়গায় মুদি- মনোহারি দোকান পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে সরকারী সম্পত্তি হওয়ায় ২০২০ সালে সরকার কর্তৃক ওই জায়গার স্থাপনা উচ্ছেদ করে চারটি দোকান ঘর পুনঃনির্মান করার ঘোষণা দেয়া হয়। আর এ সুযোগে বারুহাঁস ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাবশালী শাহিন ওই জায়গায় দোকান পাইয়ে দেয়ার কথা বলে তাঁর নিকট দেড় লাখ টাকা দাবী করে। মুদি- মনোহারী আব্দুল মতিনের একমাত্র রোজগারের অবলম্বন হওয়ায় এবং শাহিন পূর্ব পরিচিত হওয়ায় সরল বিশ্বাসে শাহিনকে দেড় লক্ষ টাকা গত ১৭/১২/ ২০২০ তারিখে প্রদান করেন।
কিন্তু ওই জায়গায় নির্মিতি চারটি দোকান ঘর অন্য ব্যক্তিরা বরাদ্দ পায়। ওই সময় বৃদ্ধ আব্দুল মতিন প্রভাবশালী শাহিনের সাথে যোগাযোগ করেন এবং দেয় দেড় লক্ষ টাকা ফেরৎ চান। কিন্তু শাহিন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে টাকা ফেরৎ না দিয়ে আব্দুল মতিনের উপর ক্ষীপ্ত হয় এবং টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, টাকা নিয়েছি তো কি হয়েছে, যা পারেন করেন গা। পরবর্তিতে আব্দুল মতিন গত ১৩/০৭/২০২৪ তারিখে আবারও শাহিনকে দেড় লক্ষ টাকা ফেরৎ চেয়ে অনুরোধ করলে ভুক্তভোগী মতিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও দেখে নেওয়ার হুমকী- ধামকী প্রদান করেন।
টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে শাহিন বলেন, আমি তাঁর কাছ থেকে এ ব্যাপারে কোন টাকা নেইনি। এটা আমার ব্যাপারে তাঁরা ষড়যন্ত্র করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে তাড়াশ থানার ভার- প্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।