
জহুরুল ইসলাম:
সিরাজগঞ্জের চৌহালী ও টাঙ্গাইলের সীমান্তবর্তী এলাকায় ১১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতভিটা, সবজিক্ষেত ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ অসংখ্য বসতবাড়ি। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত বাঁধ সংস্কার ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় সৃষ্ট তীব্র স্রোতে চৌহালী উপজেলার সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের পূর্বপ্রান্তের বারবয়লা থেকে বোয়ালকান্দি পর্যন্ত প্রায় অর্ধকিলোমিটার এলাকায় তীর রক্ষা বাঁধের অন্তত তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও নদীর তীরে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনের আশঙ্কায় অনেকেই ঘরের চাল ও আসবাবপত্র সরিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নেজমত আলী, নুরুজ্জামান ও আব্দুল খালেক জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে ১১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চৌহালী-টাঙ্গাইল যমুনা তীর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩৫০ মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, অসংখ্য বসতবাড়ি, সবজিক্ষেত ও ফসলি জমি। তাঁদের অভিযোগ, ভাঙন শুরু হলেও এখন পর্যন্ত বাঁধ সংস্কার কিংবা সরেজমিন পরিদর্শনে সংশ্লিষ্টদের কাউকে দেখা যায়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকার আরও বিস্তীর্ণ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জেলহক আলী বলেন, যমুনার ভাঙন চরাঞ্চলের মানুষের পিছু ছাড়ছে না। ১১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীর রক্ষা বাঁধের তিনটি স্থানে প্রায় ৩৫০ মিটার এলাকায় ভাঙন ও গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত বাঁধ মেরামত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ভাঙন প্রতিরোধের দায়িত্ব নিয়ে কোনো ধরনের সমন্বয়হীনতা যেন তৈরি না হয়। দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিংসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বাঁধের স্থায়ী সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ বিষয়ে ভাঙন এলাকা তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাখিল রায়হান জানান, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে কাজ করেছে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে টাঙ্গাইলের সীমান্তবর্তী হুঘরা এলাকার ভাঙনের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।