
জহুরুল ইসলাম, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ১২২নং চরঘুঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠন নিয়ে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও এক উচ্চমান সহকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন সভাপতি প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেওয়া অভিযোগে মিজানুর রহমান দাবি করেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি পদে তাকে গ্রামবাসী ও অভিভাবকদের সম্মতিতে প্রার্থী করা হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন জমা দেন তিনি। অভিযোগে তিনি নিজেকে বিদ্যালয়ের জমিদাতার সন্তান বলেও উল্লেখ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, আব্দুল হাফিজ নামে আরেক ব্যক্তি সভাপতি হওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্য একটি আবেদনে স্বাক্ষর করিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেন। পরে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান ও উচ্চমান সহকারী মো. একরামুল হক প্রধান শিক্ষককে চাকরিচ্যুত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখিয়ে সাদা কাগজে লিখিয়ে নেন এবং মিজানুর রহমানের পক্ষে দেওয়া আবেদনটি ফেরত নিতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. মিজানুর রহমান বলেন, “সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ না করে কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত চাই। যোগ্য ব্যক্তিরা যেন অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ওই ক্লাস্টারের দায়িত্ব আমার ওপর থাকলেও স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠন সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। কমিটি নিয়ে কাজের সময় আমি প্রশিক্ষণের কারণে ছুটিতে ছিলাম।”
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, “ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির জন্য দুই পক্ষের দুটি আবেদন পাওয়া গিয়েছিল। দুটির বৈধ কাগজপত্র চেয়ে প্রধান শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়। একটি পক্ষ বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পেরেছে। অন্য পক্ষ কাগজপত্র দেখাতে না পেরে তাদের আবেদন তুলে নিয়ে গেছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান বলেন, “চরঘুঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সামনে শিক্ষা মিটিংয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগপত্রের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং সম্বলিত একটি মেমোরি কার্ডও জমা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।