1. yousuf.islamics@gmail.com : admin :
  2. editor@sirajganjsangbad.com : Md. Ruhul Amin : Md. Ruhul Amin
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

বেলকুচিতে পত্রিকার এজেন্ট ও তার ছেলেকে মারধোর : উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

সিরাজগঞ্জ সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৪
  • ২৮৯ বার পঠিত

জহুরুল ইসলাম:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী শেখ ও তার দলবল কর্তৃক পত্রিকার এজেন্ট দৌলত মন্ডল ও তার ছেলে মোমিন মন্ডলকে মারপীটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। নানা নাটকীয়তার পর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারী) দুপুরে বেলকুচি থানায় মামলাটি রজু করা হয়। এর আগে সকালে একই ঘটনায় মামলা না নিয়ে কৌশলে শুধু জিডি এন্ট্রি করেছেন ওসি।

অপরাধীদের প্রতি বেলকুচি থানার বিতর্কীত ওসি আনিছুর রহমানের স্বজনপ্রীতির বিষয় টের পেয়ে পুলিশ সুপারকে জানান গণমাধ্যমকর্মীরা। অতপর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে অবশেষে এ বিষয়ে থানায় মামলা নেয়া হয়। দৌলতকে বাদ রেখে পুত্র
মোমিন বাদী হয়ে মামলা করেন। এর আগে সকালে দৌলত স্বশরীরে এজাহার দিতে গেলে
কৌশলে তা জিডি আকারে এন্ট্রি করেন ওসি।

এরপর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে বিশেষ নিরাপত্তায় বাবা-ছেলেকে দ্বিতীয় দফা থানায় ডেকে নেয়া হয়। দৌলত মন্ডল বাদী হতে চাইলেও আইনগত জটিলতায় ওসির পরামর্শে শেষ পর্যন্ত বাদী হন মোমিন। মামলা হলেও বেলকুচি উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী শেখসহ অপরাধীরা অধরা। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বেলকুচির সমেশপুর, চালা, চরচালা, জিধুরী, তামাই, ভাঙ্গাবাড়ি, এনায়েতপুর, বেতিল ও খামারগ্রামে ঈগল প্রতিকের দু’ডজন সমর্থকদের ওপর মারপীট ও বাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

এ মালার এজাহারে জানা যায়, দৌলত মন্ডল রাজনীতির সাথে জড়িত না হলেও তার বড়
ছেলে কনফেকশনারী ব্যবসায়ী মোমিন মন্ডল ও ছোট ছেলে বেলকুচি পৌরসভার অফিস
সহকারী নাবিন মন্ডল সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে ঈগল প্রতিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকমন্ত্রী লতিফ বিশ্বাসের সমর্থক ছিলেন। নির্বাচনে বিজয়ী হন নৌকার প্রার্থী আব্দুল মমিন মন্ডল এমপি। জয়-পরাজয়ের পরদিন
সোমবার দৌলত মন্ডলের ছোট ছেলেকে প্রান নাশের হুমকী দেন উপজেলা পরিষদের
ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী ও তার দলবল। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বেলকুচি আদালত পাড়ায় পত্রিকা বিক্রির সময় তার বাবা দৌলত মন্ডলকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবার হুমকী-ধামকী দেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী। এরপর চালার কুদ্দুর কোয়ার্টারে ভাড়ার বাড়িতে গিয়ে দৌলত মন্ডল ও তার বড় ছেলে মোমিন
মন্ডলকে পরিবার ও প্রতিবেশীর সামনেই মারপীট করেন ইউসুফ ও তার লোকজন।

এদিকে, মঙ্গলবার সকালে বেতিল ও খামারগ্রামে ঈগল সমর্থকদের ধাওয়া দিয়েছে নৌকার সমর্থকরা। বেতিল গ্রামের বিমল দাসের বাড়ি ভাংচুর, কামারপাড়া বুদ্দিন সরকারের দোকান খালে ফেলে দেয়া হয়। ওই দু’গ্রামের ঈগল সমর্থকরা ভয়ে পালিয়ে রয়েছেন।

দৌলত মন্ডল বলেন, ‘এর আগে নৌকার প্রার্থীর সমর্থক সাবেক শ্রমিক নেতা মোতালেব আমার দু’ছেলেকে মারধোর করেন। ঐ ঘটনায় মামলা করলেও বেলকুচির সাবেক খায়রুল বাশার আসামীদের সাথে যোগসাজস করে মামলাটি নষ্ট করে দেন। মোতালেবসহ সকল আসামীকে অব্যাহতি দেয় পুলিশ। আজ সকালে আমি ও আমার বড় ছেলেকে মারপীট করেন নৌকার সমর্থক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। মামলা না নিয়ে ওসি জিডি করেন। পরে সাংবাদিকদের কারনে মামলা নেয়া হয়। আশঙ্কা রয়েছে শ্রমিক
নেতা মোতালেবের মত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ ওসির তদন্তে বাদ না পড়েন।’

মেয়র সাজ্জাদুল হক রেজা বলেন, ‘বেলকুচিতে নির্বাচনের পর দৌলত মন্ডল ও তার ছেলে মোমিন এবং নাবিনসহ ঈগল সমর্থকদের ওপর অত্যাচার চলছে।’ বেলকুচির সাবেক উপজেলা চেয়াারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বেলকুচির ওসি বর্তমান পেক্ষাপট সামাল দিতে পারছেন না।’

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বেগম আশানুরবিশ্বাস বলেন, ‘বেলকুচির ওসি আনিসুর রহমান শুরু থেকেই বিতর্কীত আচরন
করছেন। সুবর্নসাড়া গ্রামে সম্প্রতি বোমা বিষ্ফোরনে সর্বহারা ও চরমপন্থী সদস্য কুষ্টিয়ার ফজলু খুনের রহস্য উন্মোচন তো দুরের কথা গত ২২ দিনে ঘটনার মুল আসামী সাবেক শ্রমিক নেতা মোতালেবকে ধরতে পারেনি পুলিশ।’

ঈগল প্রতিকের প্রার্থী সাবেকমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, ‘বেলকুচির ওসি আনিছুরের কারনে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বেড়েছে।’

বেলকুচির ওসি আনিসুর রহমান বলেন, ‘বাদীর লিখিত এজাহার অনুযায়ী মামলা হয়েছে। এর আগে তার বাবার জিডিও এন্ট্রিও করা হয়েছে। আসামী গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার আসামী মোতালেব সরকার কে খুঁজছে পুলিশ।’

পুলিশ সুপার মোঃ আরিফুর রহমান মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দৌলত মন্ডল ও তার ছেলে মোমিন মন্ডলকে মারপীটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামী গ্রেপ্তারের বিষয়ে থানার পাশাপাশি বেলকুচির সার্কেল এএসপি ও ডিবি পুলিশকেও দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

নৌকার প্রার্থী এমপি মমিন মন্ডলের সমর্থক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘দৌলত মন্ডলের ছেলে মোমিন মন্ডল ইয়াবা সেবনকারী ও ছোট ছেলে নাবিন মন্ডল সন্ত্রাসী। ভোটের দিন তারা আমার ছেলেকে মারপীট করেছে। সেজন্য দৌলত মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে পুলিশের সামনেই ছেলেদের নিয়ে এলাকা থেকে অন্যত্র চলে যেতে বলেছি। মামলার বিষয় অবগত নই।’

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ সিরাজগঞ্জ সংবাদ
Theme Customized BY Shakil IT Park