
আব্দুল্লাহ আল মারুফ, কামারখন্দ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীদের মধ্যে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই তাদের নেতাদেরকে বিনা অপরাধে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে সিরাজগঞ্জ জেলার বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম।
শনিবার কামারখন্দ উপজেলার নান্দিনামধু ঈদগাহ মাঠে স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলনে শহীদ ও আহত ছাত্র-জনতা এবং বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন শহীদ আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী (র:) এর শাহাদাৎ স্মারণের দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর কারা কারা যুদ্ধাপরাধী ছিলেন তাদের তদন্ত করে ১৯৫ জনের নাম পান। যারা যুদ্ধাপরাধী ছিলেন। এই ১৯৫ জনেই ছিলেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর লোক। ওই সময় কোন বেসামরিক লোক যুদ্ধাপরাধীর সাথে যুক্ত ছিলো না। ১৯৭১ সালের ঘটনা ১৯৭২ সালেই তদন্ত করেই এটি পেয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমান সরকার। এরপর সরকার এদেরকে বিচারের মুখোমুখি করে। শুধু তাই নয়। যারা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সাহায্য করেছে তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করে। সারা দেশে তালিকা করে শেখ মজিব ১ লাখ যুদ্ধাপরাধী পেয়েছিল পরে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭ হাজার যুদ্ধাপরাধী পায়। তাদেরকে বিচারের মাধ্যমে জেল দেওয়া হয়। পরর্বতীতে ভারত সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৪ সালে সিমলা চুক্তির মাধ্যমে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা করে দিয়ে তাদেরকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই সিমলা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত। তাহলে ১৯৭৪ সালের পরে বাংলাদেশে কি কোন যুদ্ধাপরাধী আছে? নাই। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার ধর্ম অবমাননায় মামলা করে। জামায়াতের নেতাদের যুদ্ধাপরাধী মামলায় গ্রেপ্তার করল ও আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল করে জামায়াতে নেতাদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে। আমাদের নেতাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে সেই হত্যার বিচার আমরা চাই। পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহের নামে ১৫৭ জন সেনা অফিসারকে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে। এইসব চৌকস দেশ প্রেমিক সেনা অফিসারদের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে অন্তর্বতীকালীন সরকারের কাছে বিচার দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার থাকালীন সময় আলেম সমাজের উপর বিভিন্নভাবে অন্যায়ভাবে জুলুম অত্যাচার করেছে এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হাসিনার নির্দেশে সেসব ছাত্র-জনতা পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছে তাদেরও বিচারের দাবি করেন।
তিনি জামায়াতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, আমরা কারো উপরে প্রতিশোধ নিবো না। কারো বাড়ি ঘরে আক্রমণ ও সম্পত্তির ক্ষতি করবো না। তবে আমরা আইনের মাধ্যমে অন্যায়কারীদের শাস্তির দাবি করি।
এর আগে সভাপতির বক্তব্য দেন কামারখন্দ থানা শাখার আমীর মাওলানা মো.ইউসুফ আলী। এছাড়া বক্তব্য দেয় কামারখন্দ থানা শাখার নায়েবে আমীর প্রিন্সিপাল আতাউর রহমান ও সিরাজগঞ্জ জেলার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আলহাজ উদ্দিন,বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর জামতৈল ইউনিয়নের সভাপতি নুরে আলম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কামারখন্দ উপজেলা শাখার সভাপতি মো.ইসমাইল হোসেন, প্রমুখ।