
জহুরুল ইসলাম বেলকুচি প্রতিনিধি:
“সুতার ডাইংয়ের কেমিক্যালযুক্ত বর্জ্যের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ২৭ মাস ধরে জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে রয়েছেন তামাই পূর্বপাড়ার দুটি পরিবার। বাড়ির উঠান থেকে রান্নাঘর—জমে থাকা পানিতে ব্যাহত হচ্ছে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। স্থায়ী সমাধান চেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।”
আমাদের বেলকুচি প্রতি“সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই পূর্বপাড়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাদের দাবি, ডাইং কারখানার বর্জ্য ও কেমিক্যালযুক্ত পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের বাড়িঘরে পানি জমে থাকছে।”
“ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সামাজিকভাবে একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
পরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন আলী হাসান ও আবু তালহাসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।”
“অভিযোগে ডাইং কারখানার বর্জ্য ও দূষিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকা এবং এর ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার বিষয়টি উল্লেখ করে সরেজমিন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
“অভিযোগের বিষয়ে ডাইং কারখানার মালিক আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ লাকী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ডাইং মালিকদের সংগঠনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”
তামাই ডাইং ফ্যাক্টরি মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল মন্নাফ জমিদার বলেন:
“বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। আমরা স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি দ্রুতই সর্বসম্মতিক্রমে একটি সমাধান হবে।”
“অভিযোগের বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান জানিয়েছে, বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
“স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, তাঁত ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেই, পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।”
“স্থানীয়দের ভাষ্য, তামাইয়ের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাদের অভিযোগ কোনোভাবেই পুরো তাঁতশিল্পের বিরুদ্ধে নয়;
বরং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান তারা।”