
বেলকুচি প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন ধরে ঈদ-পরবর্তী সময়সহ বিভিন্ন মৌসুমে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠলেও অনেকেই ভোগান্তি সহ্য করে নীরব থাকতেন। অবশেষে সাধারণ যাত্রীদের স্বস্তি দিতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।
রোববার (৭ জুন ২০২৬) বেলা ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মুকুন্দগাতী এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান।
অভিযানকালে বেলকুচি থেকে ঢাকাগামী বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় এসআই পরিবহন ও জেনিন পরিবহন কাউন্টারের টিকিট মাস্টারদের বিরুদ্ধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পৃথক দুটি মামলায় ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
শুধু জরিমানাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি প্রশাসনের অভিযান। উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে যাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়েছিল, তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
এ সময় পরিবহন কর্তৃপক্ষকে দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট টাঙিয়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ কর্মস্থল ও প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে বাধ্য হচ্ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের এই অভিযান সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
সচেতন মহল মনে করছে, মাঝে-মধ্যে নয়, নিয়মিত নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলে পরিবহন খাতে অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে। কারণ একজন শ্রমিক, ছাত্র কিংবা স্বল্প আয়ের মানুষ যখন কষ্টার্জিত অর্থ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হন, তখন সেটি শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘনেরও শামিল।
জনস্বার্থে পরিচালিত এই অভিযানের মাধ্যমে প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে— সাধারণ মানুষের পকেট কেটে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ আর নেই। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে এক টাকাও বেশি আদায় করলে তার জবাবদিহি করতে হবে আইনের কাঠগড়ায়।