অভিযোগ তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি, ৩ কার্যদিবসে প্রতিবেদন—অপরাধ প্রমাণিত হলে একাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাবিম হক নীরবের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি এবং দলীয় পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নীরবকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।
শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগে নীরবের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও জোরপূর্বক অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা, প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি প্রদর্শন, পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ার ভয় দেখানোর মতো অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগে পরীক্ষার সময় হল থেকে ডেকে নেওয়া, একাডেমিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা কলেজ অধ্যক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি, তিন কার্যদিবসে প্রতিবেদন
অভিযোগগুলো তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কলেজ প্রশাসন। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার আলী বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন একাডেমিক কাউন্সিলের কাছে উপস্থাপন করবে। এরপর একাডেমিক কাউন্সিল তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে অধ্যক্ষ হিসেবে আমার এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নেই। তদন্ত প্রতিবেদন এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
‘অভিযোগগুলো মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’—নীরব
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন সাবিম হক নীরব।
তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ করা হয়েছে। কেন এবং কার শত্রুতার কারণে হঠাৎ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
‘অভিযোগ পেয়েছি, হাই কমান্ডকে জানিয়েছি’
সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রিক্তিক হাসান বলেন, নীরবের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে। পরে কেন্দ্রীয় সংসদ তাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে।
তিনি বলেন, কলেজ প্রশাসনও অভিযোগ পেয়েছে এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিলে অভিযোগের ভিত্তিতে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আসতে পারে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বহিষ্কারাদেশে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাবিম হক নীরবকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং পরবর্তী একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের পরই অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।