
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপি গ্যাস বিক্রির জন্য ১ হাজার ৯০০ টাকা দাম চাওয়ায় সিরাজগঞ্জে এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পিপুলবাড়িয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে মেসার্স আকন্দ ট্রেডার্সের মালিক মো. এনামুল হক রুবেলকে এ জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল শেখের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, ১২ কেজি ওজনের এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু মেসার্স আকন্দ ট্রেডার্সে সিলিন্ডারটির দাম ১ হাজার ৯০০ টাকা চাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬৩ টাকা বেশি দাম চাওয়া হয়েছিল।
অভিযানকালে আরও কয়েকটি বাজারে ১২ কেজির এলপি গ্যাস সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার মধ্যে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
অভিযানে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।
ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা ও সরকার নির্ধারিত দামে এলপি গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়।
উল্লেখ্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৭২৮ টাকা। বর্তমানে (অক্টোবর) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে এপ্রিলের ওই দামের তুলনায় বর্তমানে প্রতি সিলিন্ডারে ১০৯ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে ভোক্তাদের। তবে এ সময়ের মধ্যে দাম একাধিকবার সমন্বয় হয়েছে। ৪ অক্টোবর সর্বশেষ ২৫২ টাকা বাড়িয়ে বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের দাম বাড়ায় সাধারণ পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ব্যয়ের সঙ্গে গ্যাসের বাড়তি মূল্য সামলাতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই শুধু দাম নির্ধারণ নয়, বাজারে সেই দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় বন্ধে কার্যকর তদারকি জরুরি।