জহুরুল ইসলাম:
নির্বাচনের আগে সিরাজগঞ্জের বেলকুচির সুবর্ণসাড়া গ্রামে শ্রমিকলীগের সাবেক নেতা মোতালেব সরকারের বাড়িতে বোমা বিস্ফোরনের ঘটনায় কুষ্টিয়ার চিহ্নিত ‘সন্ত্রাসী ফজলু' নিহতের ঘটনায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত মামলা হয়নি। ঢাকার শাহবাগ বা সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানায় মামলা দায়ের তো দুরের কথা বোমা বিস্ফোরনের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। সাতদিনেও কুলকিনারা খুঁজে পায়নি পুলিশ। তবে সোমবার বিকালে বেলকুচি পুলিশ বলছে, স্বজনরা মামলা না দিলে পরবর্তী ব্যাবস্থা নেবে পুলিশ।
নিহতের স্ত্রী কুষ্টিয়া জেলা সদরের মিলপাড়ার বাসিন্দা রাশেদা খাতুন ও ছেলে রাশেদ শেখের কেউই বাদী হয়ে কোথায়ও মামলা করেননি। ঘটনাস্থল ঢাকায় নয়, বরং বেলকুচিতে এমন কথা বলে মামলা করতে রাজি হননি শাহবাগ থানা পুলিশ। ভিকটিমের পক্ষ্য থেকে অভিযোগ নেই, বিষ্ফোরনের ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত নয় পুলিশ, এমন বলে মামলা রজুতে অনিহা দেখালেও পুলিশ বলছে, স্বজনরা মামলা না দিলে পরবর্তী ব্যাবস্থা নেবে বেলকুচি পুলিশ।
নির্বাচন আচরনবিধির বিষয়ে সিরাজগঞ্জে প্রার্থীগন, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনরীর সদস্যদের সাথে মতবিনিময়ে শনিবার মিলিত হন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা। কর্মসূুচী শেষে ওই দিন বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বেলকুচির বোমা বিস্ফোরনের বিষয়টি জেনে পুলিশ সুপারকে ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেন। তার নির্দেশের পরও কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে ঠেলাঠেলি রয়েছে পুলিশের।
এদিকে, জেলায় বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরন ও নাশকতার ঘটনায় জনসাধারণের জানমাল ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় পুলিশ স্বপ্রনেদিত বা উদ্দ্যোগী হয়ে বিগত সময়ে থানায় মামলা দায়ের করলেও এঘটনায় শুরু থেকে অনিহা রয়েছে। বিষ্ফোরনের ঘটনায় কুষ্টিয়ার বোমারু ফজলু ঢাকায় মারা গেলে গণমাধ্যমকর্মীরা নিজেরা উদ্দোমী তথ্য সংগ্রহ করে সংবাদ প্রকাশ করেন। এসব সংবাদ দেখেও পুলিশের টনক নড়েনি। তদন্ত চলছে, আরো সময় লাগবে, এমন বলেও পাশ কাটিয়ে যায় বেলকুচি থানা পুলিশ।
জানা যায়, শব্দশুনে বা খবর পেয়ে জিডি মুলে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান ওসি সঙ্গীয় বেলকুচি থানা পুলিশ। প্রকাশ্যে দিবালোকের বোমা বিস্ফোরনের ঘটনায় আহত দু’জনের একজন তিনদিন পর মারা যায়। এর তদন্তেও ঘাটতি রয়েছে। এমন গুঞ্জনও রয়েছে বেলকুচি পৌর এলাকায়। অন্যদিকে, ভিকটিম স্বজনদের অভিযোগ নেই বলেও দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন পুলিশ।
এদিকে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কুষ্টিয়া থেকে কেন পেশাদার ভাড়াটে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে আনা হলো। কোন উদ্দ্যেশে বোমা তৈরী করা হচ্ছিল। বোমা তৈরী বা বিস্ফোরনের আগে বেলকুচিতে চরমপন্থী বা সর্বাহারা বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন সংগঠনের লোকজন এসেছিলো কি-না, সেটি আমলে নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বেলকুচি বাসি। কোন অশুভ পরিকল্পনায় বোমা তৈরীর আগে বিস্ফোরিত হলো বা কার আমন্ত্রনে ভাড়াটে সন্ত্রাসী ফজলু কেন বেলকুচি এল বা তার পুরো শরীর কোথায় বা কিভাবে ঝলছে গেল, তা জানতে চান জন প্রতিনিধিরাও।
নিহতের ছেলে রাশেদ শেখ সোমবার দুপুরে জানান, ‘বাবা যে ভালো লোক ছিলেন, তাও নয়। যদি তাই-ই হতো বেলকুচির জঘন্য কাজে আসতেন না। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কারনে তিনদিন পর লাশ হস্তান্তর পেয়েছি। বেলকুচির বোমা বিস্ফোরণ ঘটনা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা বা ঝামেলা চাইনা। বেলকুচির পুলিশ চাইলে মামলা করতে পারেন। আমরা অবশ্যই স্বাক্ষী দিবো।
ঢাকার শাহবাগ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনা যেখানকার অভিযোগ থাকলে অবশ্যই সেখানেই মামলা হবে, পুলিশের এমন বিধান রয়েছে। বেলকুচিতে অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে ওসির মতামত নিতে শনিবার তাকে পত্র দেয়া হয়েছে। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি যেহেতু বেলকুচির, তাই এখানে মামলার সুযোগ নেই।
বেলকুচি থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, ভিকটিম ফজলুর স্ত্রী-ছেলে বা স্বজনরা বেলকুচি থানায় অভিযোগ দেয়নি। তাদের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে, তারা মামলা দিলে মামলা নেবো, মামলা না দিলে পরবর্তী ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ আরিফুর রহমান মন্ডল রোববার বিকেল সাড়ে ৪ টায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভিকটিমের পরিবারের লোকজনের সাথে আমাদের সরাসরি কোন কথা হয়নি। যতদুর জেনেছি যে, লাশ দাফনের পর হয়তো তারা আইনগন ব্যবস্থা নিতে পারেন।