
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলের বিরুদ্ধে চাচাতো ভাইদের ৪০ শতক জমি সহ মার্কেট দখলের চেষ্টা ও হুমকী দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ আগস্টের পর বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে বেলকুচি উপজেলা আওয়ামলীগ অফিস দখলেরও অভিযোগ উঠে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপির এই নেতা। তার দাবী হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে মালিকানা প্রাপ্ত হয়েই তিনি জমির উপর সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছেন।
বিএনপি নেতার চাচাতো ভাই ইকবাল রানা বলেন, বেলকুচি উপজেলার চালা মৌজার এসএ দাগ নং ২৬৮ খতিয়ান নং ৩৯৫ জেল নং ৫৮, ৭৮ শতক জমির মালিক আমার দাদা ওসমান গনী মন্ডল। এই সম্পত্তি থেকে ৩০ শতক জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বিক্রি করে আমার দাদা। পরবর্তীতে আমার দাদার মৃত্যুর পর বাকি ৪৮ শতক জমির মধ্যে ৪৪ শতক জমিতে ফ্লাট সেন্টার নির্মান করার জন্য ১৯৭৬ সালের আমার বাবা ও চাচাদের নিকট থেকে সরকার মৌখিক ভাবে নিয়ে নেয়। উক্ত জমির মধ্যে ৪০ শতক জমি ১৯৭৮ সালের ২৭ নভেম্বর বাটায়ারা দলিল মূলে (দলিল নং-২২৬৮) আমার বাবা নামে হস্তান্তর করেন আমার তিন চাচা। সরকার এই জমির উপর ফ্লাট সেন্টার নির্মান না করলে জমি ফেরত চেয়ে আমার বাবার ৪০ শতাংশ এবং বাবা ও চাচাদের নামে থাকা আরো ৪ শতক সহ মোট ৪৪ শতক জমি ফেরত চেয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করা হয়। হাইকোর্ট ২০০০ সালের উক্ত জমি ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীদের বুঝিয়ে দিতে ভূমি মন্ত্রনালয়কে আদেশ প্রদান করেন।
এর পর আমার ফুপাতো ভাই আব্দুল হাকিম গংরা বাটোয়ারা দলিল বাতিলের দাবীতে আদালতে মামলা দায়ের করেন (বাটোয়ারা মামলা নং ৫৯/২০০৮)। এই মামলায় আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল গংরা অন্তভূক্ত হয়ে জবাব দাখিল করে। কিন্তু মামলাটি ২০১৮ সালের ৪ জুন খারিজ করে দেয় আদালত।
ইকবাল রানা আরো বলেন, বাটোয়ারা দলিল মূলে এই সম্পত্তির মালিক আমরা। আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় জোর পূর্বক আমাদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন। তিনি জমির উপর নির্মাধীন মার্কেটের উপর জোর পূর্বক সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি আমি বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমীরুল ইসলাম আলীমকে অবগত করেছি। তিনি কাগজপত্র যাচাই বাছাই করার জন্য তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। জমি দখলের চেষ্টা ও হুমকী দেওয়ার অভিযোগে বেলকুচি থানায় অভিযোগও করেছি।
এবিষয়ে খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, আমীরুল ইসলাম আলীম ভাই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন কাগজপত্র যাচাই বাছাই করার জন্য। আমি জমি ও আদালতের সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে বসেছিলাম। বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলের বাবা ও চাচারা বাটোয়ার দলিল মূলে এই জমি আব্দুল হাই মন্ডলের নামে হস্তান্তর করেছেন। সুতরাং এই জমির মালিক আব্দুল হাই মন্ডল।
এবিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল বলেন, জমি দখল ও হুমকীর অভিযোগ সত্য নয়। হাইকোর্ট এই জমি আমার বাবা ও চাচাদের ফেরত দিয়েছে। জমিতে আমার বাবার অংশ আছে। যে কারনে আমি সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছি। ৪৪ শতক জমির মধ্যে ৪০ শতক জমি বাটোয়ারা দলিল মুলে আব্দুল হাই মন্ডল মালিক এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন জমি যদি তাদের হয়ে থাকে তাহলে তারা আদালতে যাক। আদালত আদেশ দিলে আমি জমি ছেড়ে দেবো।