জহুরুল ইসলাম:
“নদীর বুকে নৌকার ছুটে চলা, তীরে তীরে মানুষের ঢল!
বৈঠার তালে তালে মাঝিদের লড়াই, আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর যমুনার পাড়।
গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা নৌকা বাইচের আনন্দে মেতে উঠেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি।”
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পানসি ও কোষা নৌকা বাইচের চূড়ান্ত পর্ব।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা ব্যাংক পিএলসির অর্থায়নে এবং মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ নৌকা বাইচ ঘিরে সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। প্রতিযোগিতা দেখতে যমুনার দুই তীরে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক মানুষ।
চূড়ান্ত পর্বে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ৮টি পানসি ও ৬টি কোষা—মোট ১৪টি নৌকা অংশ নেয়।
নৌকা নদীর বুকে ছুটে চলার সঙ্গে সঙ্গে মাঝিদের বৈঠার তালে তালে জমে ওঠে প্রতিযোগিতা। একের পর এক নৌকার লড়াই আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে যমুনার দুই পাড়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও পূবালী গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।
তিনি বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন। নৌকা বাইচ আমাদের গ্রামবাংলার পুরোনো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি অংশ। আধুনিকতার সঙ্গে অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ঐতিহ্য তুলে ধরতে নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন করা দরকার।
তিনি আরও বলেন, নৌকা বাইচ শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আনন্দ, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি তৈরি হয়। গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে নৌকা বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেন প্রামাণিকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান, পূবালী গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শফিকুল ইসলাম সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (বেলকুচি সার্কেল) শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব গাজী সাইদুর রহমান, বেলকুচি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, সোহাগপুর মানব কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাতুল ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দিন প্রামাণিক ও সদস্য সচিব আলম প্রামাণিক।
টানটান উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতা শেষে পানসি নৌকায় প্রথম স্থান অর্জন করে ‘নিউ শাড়ীর ভিটা’ এবং কোষা নৌকায় প্রথম হয় ‘আল্লাহ ভরসা’।
চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেড় লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এ নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় গত ৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নৌকা বাইচের উদ্বোধন ঘোষণা করেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীম।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৮টি পানসি ও ১২টি কোষা—মোট ৩০টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বাছাই শেষে রোববারের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয় ৮টি পানসি ও ৬টি কোষা নৌকা।