জহুরুল ইসলাম
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি সেপ্টেম্বরের ২৩ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে ১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত নূরী খাতুন (১২) নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
বুধবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বেলকুচি পৌর এলাকার ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে নূরী খাতুনের মৃত্যু হয়। তার মামা আব্দুল মমিন শেখ জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর জ্বর নিয়ে নূরীকে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়। পরে শনিবার খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জিএম আল-ইমরান বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চলতি মাসের ২৩ দিনে মোট ৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক দুটি ওয়ার্ড করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধের পাশাপাশি বিনামূল্যে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পুরুষ ওয়ার্ডে ৭টি এবং নারী ওয়ার্ডে ৩টি বেড রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসফিয়া সাবেরিন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরিন জাহান বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। খোঁজ নিয়ে পৌরসভার মাধ্যমে মৃতের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
ডেঙ্গুর লক্ষণ ও করণীয়
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও ত্বকে র্যাশ থাকতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, দ্রুত শ্বাস, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, রক্তবমি বা পায়খানায় রক্ত এবং অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও টায়ারসহ পানি জমতে পারে এমন স্থান পরিষ্কার রাখা এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।