দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ওলামা-মাশায়েকদেরকে ঐক্যবদ্ধ ভুমিকা রাখতে হবে - অধ্যক্ষ মাওঃ শাহীনূর আলম.
বেলকুচি প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,কেন্দ্রীয় মজলিশে শু'রা সদস্য,সিরাজগঞ্জ জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওঃ শাহীনূর আলম বলেছেন, আমরা বৈষম্যহীন ও শোষনমুক্ত একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা একটি পরিপূর্ণ বিপ্লবের স্বপ্ন দেখি। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ, জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কোন মানুষ তার ন্যয্য নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেনা। এজন্য মতভেদ ভূলে দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ওলামা-মাশায়েখদেরকে ঐক্যবদ্ধ ভুমিকা রাখতে হবে ।
শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সকালে,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,বেলকুচি উপজেলা ওলামা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিরাট ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ মাওঃ আবুল হাশেম সরকার এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওঃ মাযহারুল ইসলামের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,কেন্দ্রীয় মজলিশে শু'রা সদস্য,সিরাজগঞ্জ জেলা নায়েবে আমীর ও জেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওঃ আব্দুস্ ছালাম ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শু'রা সদস্য,জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মোঃ আলী আলম। বেলকুচি উপজেলাস্থ শ্যামকিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,বেলকুচি উপজেলা আমীর আরিফুল ইসলাম সোহেল। সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,বেলকুচি উপজেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক নূর-উন-নবী সরকার ও মাওঃ আব্দুর রাজ্জাক,জামায়াত নেতা মাওঃ মাহবুবুর রশিদ শামীম,বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মুহাদ্দেস মাওঃ লুৎফর রহমান,অধ্যাপক মাওঃ জাহাঙ্গীর আলম ও মাওঃ আমিরুল ইসলাম প্রমূখ।
জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওঃ শাহীনূর আলম আরো বলেন,একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও আদর্শ সমাজ গঠনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আলেম-ওলামাদের ভূমিকা অপরিসীম। কেননা, তারা জাতির রাহবার। আলেম-ওলামারাই হলেন পথহারা জাতির পথ প্রদর্শক। সঠিক পথের সন্ধান দেয়া জাতির প্রতি আলেম-ওলামাদের কোনো দয়া নয় বরং এটা তাদের দায়িত্ব। অতীতে যারা এই দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন আমরা তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। তারা কারো চোখ রাঙ্গানিকে পরোয়া করেননি বরং প্রয়োজনে আল্লাহর রাস্তায় জীবনকে কুরবানি করে দিয়েছেন। দ্বীন প্রচারের কাজে বাঁধা আসবেই। সে বাঁধাকে মোকাবেলা করে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেই দ্বীন কায়েমের পথ সুগম হবে।
প্রধান অতিথি একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ ও একটি ইসলামী কল্যাণকামী রাস্ট্র কায়েমে সকল আলেম-ওলামাদেরকে মত পার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে ময়দানে ভূমিকা রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান।
সম্মেলনে জামায়াত নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন,বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুগে যুগে আলেমদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। গত ৫ই আগষ্টের বিজয়েও আলেমদের ত্যাগ-কোরবানী ছিলো নজিরবিহীন। অনেক ইমাম-খতিব জীবন দিয়েছেন,পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, সারাজীবনের জন্য চোখ হারিয়েছেন যা ইতিহাস হয়ে থাকবে। সুতরাং,আগামী'র বাংলাদেশ গড়তে দেশের সকল আলেম-ওলামাকে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে এবং দ্বীনের একনিষ্ঠ খাদেম হিসেবে পরকাল ভিত্তিক জীবন পরিচালনা করতে হবে। নেতৃবৃন্দ,আল্লাহর দ্বীন কায়েমের পথে দ্বীপ্ত শপথ নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকল ওলামা-মাশায়েখদেরকে একসাথে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।