ভৌগোলিক অবস্থান, ভূরাজনীতি ও সম্ভাবনাময় অর্থনীতির ফলে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ক্ষমতাধর দেশগুলো। তাই ভূরাজনীতির সমীকরণে দেশটির আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরব বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া। নির্বাচনে নজর রাখছে ভারত-চীনসহ অন্যান্য দেশও।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। একদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে রাশিয়া। অন্যদিকে তাদের অভিযোগ অস্বীকার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের দুই পরাশক্তির পাল্টাপাল্টি অবস্থানে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। ফলে দেশটি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা ব্যাপক। ফলে বিশ্বের বৃহৎ পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশে নিজেদের আধিপত্য রাখতে চায়।
বাংলাদেশে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সঙ্গে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন মন্তব্য করে ১৫ ডিসেম্বর বিবৃতি দিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ও মার্কিন দূতাবাস যেভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, ভবিষ্যতেও সেভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা পূরণে এবং দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা যেন সম্মান করা হয়, তা নিশ্চিতে তাদের কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত থাকবে
বিবৃতিতে তিনি বলেন, জনগণের ভোটের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সন্তোষজনক মনে না হলে ‘আরব বসন্তের’ মতো বাংলাদেশকে আরও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হতে পারে। এমন আশঙ্কার গুরুতর ভিত্তি রয়েছে যে আগামী সপ্তাহগুলোয় ‘পশ্চিমা শক্তিগুলোর পক্ষে অসুবিধাজনক’ বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নানান রকমের অবরোধ আরোপ হতে পারে। বাংলাদেশের শিল্প খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর ওপর আঘাত আসতে পারে। সেই সঙ্গে কিছু সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক রায় প্রদানে বাধাদানের তথ্যপ্রমাণহীন অভিযোগ তুলে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।