
সাব্বির মির্জা,তাড়াশ প্রতিনিধিঃ
কোরবানির গরুর চামড়ার কদর আর আগের মতো নেই। বিগত বছরে ন্যূনতম দাম না পেয়ে কোথাও কোথাও চামড়া নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। ঘটনার রেশ ধরেই সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পশুর চামড়া কেনার মতো ক্রেতা মিলছে না। গরুর চামড়া পানির দরে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিক্রেতারা।
প্রতিটি চামড়া থেকে ৩০০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু খাসির চামড়া মাঠেই পড়ে নষ্ট হচ্ছে। কোনো ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।
জানা গেছে, তাড়াশ পৌরসভা এবার মাইকিং করে চামড়ার হাট বসায়।
কিন্তু সাধারণ ফডিয়া ছাড়া বড় ব্যবসায়ীর দিনভর দেখা মেলেনি। এ কারণে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চামড়ার মূল্য কমতে কমতে তলানিতে এসে ঠেকে। রাত সাড়ে ৮টায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় আর ছাগলের চামড়া কিনছেই ক্রেতারা। ফলে ঈদগাঁ মাঠে অনেকে খাসির চামড়া ফেলে রেখে গেছেন।
সোমবার (১৭ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চামড়া কেনার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যায়নি বলে জানান তাড়াশের কসাই মফিজ উদ্দিন। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি জানান, আড়তে সিন্ডিকেট চক্র, তীব্র গরমে চামড়া পচে যাওয়ার আশঙ্কা ও চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণের খরচ হিসাব করে চামড়া কেনেননি ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, দুপুর ১২টা থেকে এক-দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি গরুর চামড়া ৮০০ থেকে হাজার টাকা দরে বিক্রি শুরু হয়। এর পর থেকেই শুরু হয় দরপতন। দেরিতে আসা চামড়া বিক্রেতাদের পড়ে মাথায় হাত।
চক জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের আজাদুর রহমান জানান, তার কোরবানির পশুর চামড়া তিন ঘণ্টা রাখার পর একজন মাত্র মৌসুমি ক্রেতা ৮০০ টাকা দাম করেছেন। অথচ কোরবানির গরুটি কেনা ছিল দেড় লাখ টাকায়। পরে তিনি হাজার টাকায় ওই চামড়া বিক্রি করেছেন।
দোগাড়িয়া গ্রামের লোকমান হোসেন জানান, এখন কেউ দামই বলছে না। যা বলছে তা বলার মতো না। একটি দেড় লাখ টাকা মূল্যের ষাঁড়ের চামড়া যদি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দাম বলে, তাহলে বুঝতেই পারছেন কী অবস্থা।
ভ্যানভাড়াই তো উঠবে না। আর খাসির চামড়ার কোনো দামই বলছে না ক্রেতারা।
তাড়াশ বাজারের চামড়ার মৌসুমি মহাজন নাজু মীর্জা বলেন, ‘নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া এলাকার যেসব বড় চামড়া ব্যবসায়ী রয়েছেন, তারা এবার তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।’
এ প্রসঙ্গে নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ী মো. আমান উল্লা সরদার জানান, চামড়া কেনা ও তা দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এর চেয়ে বেশি দামে চামড়া কেনা সম্ভব না।
স্থানীয় একটি কওমি মাদরাসার পরিচালক মো. জাকারিয়া বলেন, ‘কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নেই। তাই দরিদ্র মানুষ ও কওমি মাদরাসা, এতিমখানার মতো প্রতিষ্ঠান এবারও কোরবানির পশুর চামড়া থেকে তেমন আর্থিক সহযোগিতা পাবে না।’