সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুমিত। তিনি বলেন, আধুনিক ল্যাব ও প্যাথলজির সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করা হয়েছে। এখন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য শুধু ঢাকায় যেতে হচ্ছে না; জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও তারা চিকিৎসা নিতে পারছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) কর্নার পরিদর্শন এবং ব্রেস্টফিডিং কর্নারের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আর কোনো রোগীকে বিনা চিকিৎসায় মারা যেতে দেব না।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, নভেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসবে। এ সময় তিনি বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
অসংক্রামক রোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে ৭২ শতাংশের বেশি মানুষের মৃত্যু অসংক্রামক রোগের কারণে হচ্ছে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে। এসব রোগে মৃত্যুহার কমাতে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। এ জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নারে সারা বছর ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুরে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৫ হাজার ১৮২ জন রোগী ডিজিটাল নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতি মাসে সেবা নেন। তবে নিয়মিত ওষুধের সরবরাহ না থাকায় রোগীদের নিয়মিত ফলোআপ সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কোনো রোগী যেন ওষুধসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।