
সাব্বির মির্জা,তাড়াশ প্রতিনিধিঃ
মাদ্রসায় গোপনে নিয়োগ বাণিজ্য ও ম্যানেজিং কমিটি করাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ তাড়াশের রোকনপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী উজ্জল আহমেদ ও তার পেটুয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার দুপুরে রোকনপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস কক্ষে।
বিষয়টি ওই মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট (ভারপ্রাপ্ত) কে.বি.এম আব্দুল মান্নান নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রভাবশালী উজ্জলের নেতৃত্বে তার বাহিনীর ৭ থেকে ৮ জন সদস্য অফিস কক্ষে ঢুকে মাদ্রসায় গোপনে শূণ্য পদে নিয়োগ ও ম্যানেজিং কমিটি করার কথা বলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তাদের তান্ডব এবং সন্ত্রাসী আচরণে মাদ্রাসায় শিক্ষক -শিক্ষিকা এবয় শিক্ষার্থীদের মাঝে ভীতির সঞ্চার হয়। qপরে গত বৃহস্পতিবার ওই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে রোকনপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট সহ ১৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুইচিং মং মারমা ও তাড়াশ থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন দুপুরে উপজেলার তালম ইউনিয়ন রোকনপুর গ্রামের মো. তমছের আলীর ছেলে প্রভাবশালী ও তালম ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক উজ্জ্বাল আহমেদ ও তার পেটুয়া বাহিনী রোকনপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস কক্ষে সন্ত্রসী কায়দায় প্রবেশ করেন। প্রবেশ করে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট (ভারপ্রাপ্ত) কে.বি.এম আব্দুল মান্নান সহ সকল শিক্ষককে মাদ্রাসার শূণ্য পদে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য ও পছন্দের প্রার্থীকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করা হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। এ সময় উপস্থিত শিক্ষক - শিক্ষিকারা প্রতিবাদ করলে তাদের দিকে বারবার মারমূখি হয়ে তারা তেড়ে যান। এর ফলে আধা ঘন্টা ব্যাপী মাদ্রাসায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। যা দেখে সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দ্রæত মাদ্রাসা ছাড়তে থাকেন। পাশাপাশি তাদের পছন্দের প্রার্থীদের শূণ্য পদে নিয়োগ এবং পছন্দের লোককে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করা না হলে প্রাণ নাশের হুমকী দিয়ে চলে যান বলে উজ্জল আহমেদ এবং তার লোকজন। এমনই অভিযোগ করেন মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট (ভারপ্রাপ্ত) কে.বি.এম আব্দুল মান্নান।
অবশ্য অভিযুক্ত প্রভাবশালী উজ্জল আহমেদ তার ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, নিয়োগ বাণিজ্য, মাদ্রাসার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অর্ধ-ডজন মামলা-মকদ্দমা চলমান থাকা ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করা সহ নানা অনিয়মের কারণে মাদ্রাসাটির শিক্ষা ব্যবস্থা ডুবতে বসেছে। তাই সংক্ষুদ্ধ হয়ে কিছু মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ফেরাতে সচেতন অভিভাবক মাদ্রাসার সুপারিন্টেডেন্টের অফিস কক্ষে যেতে পারেন।
যা নিয়ে লিখিত আকারে বিষয়টি তাড়াশ থানায় অভিযোগ দেন মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট (ভারপ্রাপ্ত) কে.বি.এম আব্দুল মান্নান। আর অভিযোগ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক ভাবে তদন্তে মাদ্রাসায় আসন্ন নিয়োগ বানিজ্য নিয়ে বিরোধে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপর দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুইচিং মং মারমা জানান, বিষয়টি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।