
জহুরুল ইসলাম:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগে পিতা-পুত্রকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, খালি ম্যাগজিন, দুইটি গুলির খোসা ও দুইটি ইলেকট্রিক শক লাইট উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর উত্তরপাড়া ভূমি অফিসের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন—রাজাপুর উত্তরপাড়ার মৃত দেলবার প্রামাণিকের ছেলে জেলহক (৫২) ও তার ছেলে মো. নাসির (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলহক ও তার আপন ভাই সেলিমের পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের সূত্র ধরে রোববার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেলিমের ছেলে ইয়াসিন (২০) এ ঘটনায় গুলির লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বলে পুলিশের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের এজাহারে বলা হয়, সংঘর্ষের সময় নাসির তার কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে ইয়াসিনকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়েন। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ইয়াসিনের শরীরে কোনো গুলি লাগেনি এবং বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা জেলহক ও নাসিরকে আটক করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে নাসিরের কাছ থেকে একটি পিস্তল ও একটি ইলেকট্রিক শক লাইট এবং জেলহকের কাছ থেকে আরও একটি ইলেকট্রিক শক লাইট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থলের একটি কাঁচা রাস্তা থেকে দুইটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের জব্দ তালিকা অনুযায়ী, উদ্ধার করা পিস্তলের গায়ে ‘Made in USA’ ও ‘11’ নম্বর খোদাই করা রয়েছে। অস্ত্রটির সঙ্গে একটি খালি ম্যাগজিনও ছিল।
এ ঘটনায় জেলহক ও নাসিরের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বেলকুচি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে পিস্তল, গুলির খোসা, ম্যাগজিন ও ইলেকট্রিক শক লাইটসহ পিতা-পুত্রকে আটক করা হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের মারধরে জেলহক আহত হলে তাকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাসিরকে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আটক পিতা-পুত্রের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।