জহুরুল ইসলাম:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে আঃ মমিন (৩৫) নামে একজন গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্বজনদের দাবি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় বেলকুচি পৌর এলাকার দেলুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত আঃ মমিনের ভাই মান্নান অভিযোগ করে বলেন, বাড়ির সীমানায় প্রাচীর নির্মাণের সময় বাধা দেওয়া হয়। পরে প্রতিপক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়ে এসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।
মান্নানের দাবি, হামলার সময় তার ভাই মমিন বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষের শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, মমিন ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক তার এক আত্মীয়ের জায়গা দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করছিলেন। ওই সময় বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকায় পরিবারের নারীরা সেখানে গিয়ে বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
শফিকুল ইসলামের ভাষ্য, এতে কয়েকজন নারী আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। একইসঙ্গে নারীদের পরিহিত স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত থাকায় ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং আহতদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোক্তারুজ্জামান জানান, দেলুয়া গ্রামের মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষের কাছ থেকেই লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলা-ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।