
তাড়াশে গভীর রাতে বিদ্যালয়ের কাঁটাতারের বেড়া ভাঙল দুর্বৃত্তরা, তদন্তে পুলিশ
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ):
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দিঘী সদগুনা মডার্ণ একাডেমি রুরাল জুনিয়র গার্লস স্কুলের চারপাশে নির্মিত কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেষ্টনী গভীর রাতে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রাতের কোনো এক সময়ে সংঘটিত এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক কষ্টে বিদ্যালয়ের চারপাশে কাঁটাতারের বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে সেটি ভেঙে ফেলেছে। এতে শুধু বিদ্যালয়ের সম্পদের ক্ষতিই হয়নি, বরং ছাত্রীদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই ভাঙচুর চালিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”
এদিকে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী পুনর্নির্মাণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দিঘী সদগুনা মডার্ণ একাডেমি রুরাল জুনিয়র গার্লস স্কুলটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙচুরের ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন— একটি বালিকা বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার পেছনে কারা রয়েছে? কী উদ্দেশ্যে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হলো? এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো তাড়াশবাসী।